শনিবার । ৩১শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৭ই মাঘ, ১৪৩২

জুলাই দায়মুক্তির আওতায় খুলনার ৬ মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

case

চব্বিশের গণঅভূত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও দায়মুক্তির অধ্যাদেশের আওতায় এসেছে খুলনার ৩ থানার ৬ টি মামলা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যগুলো হচ্ছে পুলিশের সেপাই সুমন কুমার ঘরামী হত্যা, বাংলাদেশ বেতার, জেলা পরিষদ ও প্রেসক্লাবে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট।

স্বৈরশাসনের অবসানের লক্ষ্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সংগঠিত ঘটনাগুলো ফৌজদারী আইনের দায়-দায়িত্ব থেকে অভ্যুত্থানকারীদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনায় দায়ের করা ফৌজদারী মামলা প্রত্যাহার করার কথা বলা হয়েছে। অধ্যাদেশের আওতায় পড়বে ১ জুলাই-৩১ আগস্টের রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপট।

জুলাইতে সরকারি চাকরীতে কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। এক পর্যায়ে সরকার পতনের আন্দোলনে রুপ নেয়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ব্যানারে শিববাড়ি, জিরো পয়েন্ট, খুবি, গল্লামারী ও সাচিবুনিয়া সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। বিক্ষোভ-সমাবেশ দমাতে সেনাবাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী, র‌্যাব, নৌবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ নামে। ৪ আগস্ট থেকে এসব বাহিনী পিছু হটে যায়। ছাত্র-জনতা শিববাড়িতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বিজয় উল্লাসে নামে। এ সময়ে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র, জেলা পরিষদ, প্রেসক্লাব, আওয়ামী লীগ অফিস, শেখবাড়ি অগ্নিসংযোগ এবং কয়রা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মহসিন রেজাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। উল্লেখযোগ্য মামলাগুলো হচ্ছে, ২ আগস্ট সান্ধ্য আইন শিথিল হলে কেএমপি সহকারী কমিশনারের দেহরক্ষী ৩৩ বছর বয়সী সুমন কুমার ঘরামী নিহত হন। তিনি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার কিসমত মালিপাটন গ্রামের সুশীল কুমার ঘরামীর ছেলে।

এ ঘটনায় হরিণটানা থানার এসআই মোস্তফা সাকলাইন বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় হামলা, পুলিশ হত্যা ও তাদের গড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় অজ্ঞাতনামা আট হাজার ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। বেতারে অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায় ২৭ আগস্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় জিডি করে। এতে উল্লেখ করা হয় ৫ ও ৬ আগস্ট অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটে ১০০ কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়। জেলা পরিষদে অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনায় প্রধান সহাকারী মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন খুলনা থানায় বাদী হয়ে মামলা করে। প্রেসক্লাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার বাদী হয়ে ৯৫ লাখ ৮১ হাজার টাকার সম্পদ ক্ষতি হওয়ায় মামলা করেন। ৫ আগস্ট ক্লাবে অগ্নিসংযোগ ও লুটের ঘটনা ঘটে।

প্রসঙ্গ নিয়ে পিপি তৌহিদুর রহমান চৌধুরী তুষার বলেছেন, “গেজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে এসব মামলা প্রত্যাহারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ে আবেদন করা হবে।” তিনি বলেন, “ব্যক্তিগত বিরোধের পর্যায়ে কোনো মামলা হলে তা জুলাই দায় মুক্তির আওতায় আসবে না।” পুলিশ সদস্য হত্যার বিষয়টি তিনি এ অধ্যাদেশের আওতাভুক্ত বলে উল্লেখ করেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন